কেরানীগঞ্জে জেলা পরিষদ মার্কেটে ভয়াবহ জালিয়াতি: নকশা বদলে ৬৮ দোকান ‘গোপন’ বিক্রি, কোটি কোটি টাকা লোপাট
প্রকাশ: ০৮ মার্চ ২০২৬, ০১:৫৬ অপরাহ্ন | ভিন্ন খবর
মাহফুজার রহমান :
কেরানীগঞ্জের কালিগঞ্জ জেলা পরিষদ মার্কেটে এক বিশাল দুর্নীতির সিন্ডিকেট উন্মোচিত হয়েছে। মার্কেটের মূল নকশা জালিয়াতি করে অবৈধভাবে নির্মিত ৬৮টি দোকান গোপনে বিক্রি এবং ভুয়া রশিদের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে দৈনিক অর্থনীতির কাগজের কাছে । স্থানীয় সরকার বিভাগের (এলজিইডি) সাম্প্রতিক এক তদন্তে এই ভয়াবহ অনিয়মের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে।
নকশা জালিয়াতির নেপথ্যে : অনুসন্ধানে জানা যায়, কালিগঞ্জ জেলা পরিষদ মার্কেটের দুটি ভবনে অনুমোদিত দোকানের বাইরেও সুকৌশলে নকশা পরিবর্তন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী: প্রথম ভবনের আন্ডারগ্রাউন্ডে ১২টি অবৈধ দোকান। দ্বিতীয় ভবনের আন্ডারগ্রাউন্ডে ৫০টি অবৈধ দোকান। ভবনের নিচতলা থেকে পঞ্চম তলা পর্যন্ত আরও ৬টি দোকানসহ মোট ৬৮টি দোকান সম্পূর্ণ অবৈধভাবে নির্মাণ করা হয়েছে।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, জেলা পরিষদের সরকারি রেজিস্ট্রারে এই ৬৮টি দোকানের কোনো অস্তিত্ব নেই। অথচ একটি চক্র সিন্ডিকেট করে এই দোকানগুলো বিক্রি করে হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা।
মূল হোতা কে?
এই বিশাল জালিয়াতির মূল কারিগর হিসেবে আঙুল উঠেছে জেলা পরিষদের নিম্নমান সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মেহেদী হাসানের দিকে। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেহেদী হাসান দীর্ঘ দিন ধরে ক্ষমতার অপব্যবহার করে জেলা পরিষদকে অন্ধকারে রেখে এই দোকানগুলো বরাদ্দ দিয়েছেন।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা দৈনিক অর্থনীতির কাগজকে জানান, তারা প্রতি মাসে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা ভাড়া দিলেও তাদের কোনো বৈধ রশিদ দেওয়া হয়নি। এছাড়া দোকান বরাদ্দের নামে জনপ্রতি ২ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত 'সালামি' নেওয়া হয়েছে, যার কোনো হিসাব সরকারি কোষাগারে জমা পড়েনি।
তদন্ত কমিটির বক্তব্য :
জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মামুন খন্দকারের নির্দেশে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি দৈনিক অর্থনীতির কাগজকে জানিয়েছে, ২০০৪ সাল থেকেই এই মার্কেটে ধাপে ধাপে অনিয়ম চলে আসছিল। বর্তমান তদন্তে ৬৮টি দোকানের অবৈধ অস্তিত্ব এবং ৫২টি দোকানের জালিয়াতি হাতেনাতে ধরা পড়েছে।
কমিটির সদস্যরা দৈনিক অর্থনীতির কাগজকে জানান, "মেহেদী হাসান জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া রশিদ ব্যবহার করে টাকা তুলেছেন এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে দোকান বরাদ্দ দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) মামলা দায়েরের সুপারিশ করা হয়েছে।"
অভিযুক্তের দাবি : অভিযুক্ত মেহেদী হাসান তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তিনি নির্দোষ এবং তৎকালীন কর্মকর্তাদের নির্দেশেই কাজ করেছেন। তবে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নথিপত্র এবং ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্য তার বিরুদ্ধেই যাচ্ছে।
