লালমাই উপজেলায় মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টা, টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ! উত্তাল যুক্তিখোলা বাজার

 প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬, ০২:০৫ অপরাহ্ন   |   জেলার খবর

লালমাই উপজেলায় মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টা, টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ! উত্তাল যুক্তিখোলা বাজার


লালমাই উপজেলা প্রতিনিধি: 

কুমিল্লার লালমাই উপজেলার যুক্তিখোলা ফাজিল মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এনায়েত উল্যাহ (৪৫) নামের এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী জনগণ টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। এতে সড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

রবিবার (১০ মে) দুপুর ১২টার দিকে যুক্তিখোলা বাজারের মসজিদ মার্কেটের নিচতলায় অবস্থিত এনায়েত টেলিকমে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত এনায়েত উল্যাহ পার্শ্ববর্তী নাঙ্গলকোট উপজেলার বাঙ্গড্ডা ইউনিয়নের নশরতপুর গ্রামের নাবু মিয়ার ছেলে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিকাশ ও মোবাইল এক্সেসরিজ ব্যবসায়ী এনায়েত উল্যাহ দুপুরে মাদ্রাসার ঐ ছাত্রীকে দোকানে ডেকে নিয়ে টেবিলের নিচে লুকিয়ে রেখে ধর্ষণের চেষ্টা করে। বিষয়টি টের পেয়ে বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী ও পথচারী তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে বাজার কমিটির কয়েকজন নেতার সহায়তায় অভিযুক্তকে তার বাবা বাড়িতে নিয়ে যায়।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে যুক্তিখোলা ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা দুপুর ১টার দিকে অভিযুক্তের দোকান ঘেরাও করে। একপর্যায়ে তারা কুমিল্লা-বাঙ্গড্ডা সড়কে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করে। এতে সড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

পরে বিকেল ৪টার দিকে লালমাই থানার ওসি মো. নুরুজ্জামান ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন।

তিনি অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে ২৪ ঘণ্টার সময় চান এবং দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। পুলিশের আশ্বাসের পর বিকেল সোয়া ৪টার দিকে শিক্ষার্থীরা ১২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়।

ভুশ্চি বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ প্রদীপ চক্রবর্তী বলেন, ধর্ষণ চেষ্টার পরপরই মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা কুমিল্লা-বাঙ্গড্ডা ও লাকসাম-বাঙ্গড্ডা সড়ক অবরোধ করে। খবর পেয়ে আমি ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছি এবং ভিকটিমকে এনায়েত টেলিকম থেকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করি।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নুরুজ্জামান বলেন, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ভিকটিমকে মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। 

জেলার খবর এর আরও খবর: