যুক্তরাজ্য থেকে ইসরায়েলে পাঠানো অস্ত্রের চালান জব্দ করলো বেলজিয়াম
প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১১:১৩ পূর্বাহ্ন | আন্তর্জাতিক
যুক্তরাজ্য থেকে ইসরায়েলের উদ্দেশে পাঠানো সামরিক যন্ত্রাংশের দুটি চালান বেলজিয়ামে জব্দ করা হয়েছে। ইসরায়েলের জন্য সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী কোনো উড়োজাহাজ বেলজিয়ামের মাটি স্পর্শ করা বা দেশটির আকাশসীমা ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গত মাসে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডিক্লাসিফাইড, বেলজিয়ান এনজিও ভ্রেইডেসাক্টি, আইরিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ডিচ এবং প্যালেস্টাইন ইয়ুথ মুভমেন্ট বেলজিয়ামের লিয়েজ বিমানবন্দর হয়ে ইসরায়েলে অস্ত্র যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে ব্রাসেলস কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেছিল। এর পরেই গত ২৪ মার্চ লিয়েজ বিমানবন্দরে তল্লাশি চালিয়ে এই চালানগুলো জব্দ করা হয়, যা আগের দিন যুক্তরাজ্য থেকে রওয়ানা হয়েছিল।
বেলজিয়ামের এক বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী জব্দ করা মালামাল পরীক্ষা করে সেখানে অগ্নিনির্বাপক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং সামরিক বিমানের যন্ত্রাংশ খুঁজে পেয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, এই মালামালগুলো যথাযথভাবে ঘোষণা দিয়ে পাঠানো হয়নি। বেলজিয়াম কর্তৃপক্ষ এই ঘটনায় ইতিমধ্যে একটি ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছে।
যদিও তদন্তের স্বার্থে জড়িত সংস্থাগুলোর নাম প্রকাশ করতে তারা অস্বীকৃতি জানিয়েছে, তবে দক্ষিণ বেলজিয়ামের ওয়্যালুন আঞ্চলিক সরকার জানিয়েছে যে, এর মধ্যে অন্যতম একটি প্রতিষ্ঠান হলো আমেরিকান অ্যারোস্পেস কোম্পানি ‘মুগ’। এই কোম্পানির যুক্তরাজ্যের উলভারহ্যাম্পটনে অবস্থিত কারখানা থেকে এর আগেও গত ডিসেম্বরে বেলজিয়াম হয়ে ইসরায়েলে সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছিল।
তদন্তকারী সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই যন্ত্রাংশগুলো যুক্তরাজ্যের একটি ওপেন ইন্ডিভিজুয়াল এক্সপোর্ট লাইসেন্সের আওতায় রপ্তানি করা হচ্ছিল এবং এগুলোকে সামরিক সরঞ্জামের পরিবর্তে সাধারণ ‘বিমানের যন্ত্রাংশ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মুগ কোম্পানি থেকে অন্তত ১৭টি চালান একইভাবে যুক্তরাজ্য থেকে লিয়েজ বিমানবন্দর হয়ে ইসরায়েলের পথে গিয়েছে।
মুগ মূলত এম-৩৪৬ বিমানের অ্যাকচুয়েটর তৈরি করে, যা ইসরায়েলি পাইলটদের প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত হয়। একটি তথ্য অধিকার আইনের আওতায় জানা গেছে, বেলজিয়াম হয়ে ইসরায়েলে সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর বিষয়ে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তরের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো নথিপত্র নেই।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ব্রিটিশ সরকার ইসরায়েলে অস্ত্র রপ্তানির ৩৫০টি লাইসেন্সের মধ্যে ৩০টি স্থগিত করেছিল। গাজায় আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের আশঙ্কায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য বিভাগ জানিয়েছে, গাজায় সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত হতে পারে এমন সব সরঞ্জামের লাইসেন্স স্থগিত রয়েছে, তবে এফ-৩৫ প্রোগ্রামের জন্য বিশেষ কিছু ছাড় রয়েছে।
অন্যদিকে ওয়্যালুন সরকারের মুখপাত্র জানিয়েছেন, জব্দ করা এই মালামাল পরিবহনের জন্য অবশ্যই ট্রানজিট লাইসেন্সের প্রয়োজন ছিল। বেলজিয়াম সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, কোনো ট্রানজিট লাইসেন্সের আবেদন করা হয়নি; আবেদন করা হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা হতো।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
