মাচাদোকে জরুরি বৈঠকে বসার জন্য ডেকে পাঠিয়েছেন ট্রাম্প
প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:২২ অপরাহ্ন | আন্তর্জাতিক
ভেনেজুয়েলার শান্তিতে নোবেলজয়ী বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে জরুরি বৈঠকে বসার জন্য ওয়াশিংটনে ডেকে পাঠিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বার্তা সংস্থা এএফপি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আগামী বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন বাহিনীর হাতে বন্দি হওয়ার পর থেকে ভেনেজুয়েলার রাজনীতিতে কিছুটা কোণঠাসা হয়ে পড়া মাচাদোর এই রাজকীয় প্রত্যাবর্তন কারাকাসের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মধ্যে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজের প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করতেই ট্রাম্প এই ‘বিকল্প কার্ড’ ব্যবহার করছেন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
গত ৩ জানুয়ারি মাদুরো অপহৃত হওয়ার পর দেশটির সেনাবাহিনী ও আদালতের সমর্থনে ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পান এবং ট্রাম্প প্রশাসন দ্রুতই তাকে সমর্থন জানায়। তবে গত কয়েক দিনে পরিস্থিতির নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে যখন স্বেচ্ছায় নির্বাসনে থাকা মাচাদো নিজের নোবেল পুরস্কার ট্রাম্পের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এর পরপরই ওয়াশিংটন মাচাদোকে আলোচনার টেবিলে আমন্ত্রণ জানায়।
মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্প এখনো দেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে কাজ করে গেলেও তাকে কড়া হুশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন। বিশেষ করে ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলের মজুত সংক্রান্ত বিষয়ে ওয়াশিংটনের ইচ্ছা-অনিচ্ছার সঙ্গে তাল মিলিয়ে না চললে দেলসিকেও চরম পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে বলে রিপাবলিকান এই নেতা স্পষ্ট করে দিয়েছেন।মাচাদোর সঙ্গে বৈঠকের এই ঘোষণার পরপরই চাপে পড়ে কারাকাস প্রশাসন নতুন করে আরও ১১৬ জন রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের পর বিক্ষোভের দায়ে মাদুরো আমলে আটকদের মুক্ত করতে আগে থেকেই চাপ দিচ্ছিল ওয়াশিংটন ও অন্যান্য পশ্চিমা দেশ।
যদিও জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে এখন পর্যন্ত মাত্র ৫০ জন মুক্তি পেয়েছেন, যেখানে আটকের সংখ্যা ছিল ৮০০ থেকে ১,২০০-এর মতো। মাচাদোর ওয়াশিংটন সফরকে কেন্দ্র করে এই বন্দি মুক্তিকে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে ট্রাম্পকে তুষ্ট করার একটি কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মার্কিন অনুমোদন পেলেই ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কিনবে ভারতমার্কিন অনুমোদন পেলেই ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কিনবে ভারত
সাত বছর পর কারাকাসে আবারও মার্কিন দূতাবাস খোলার বিষয়ে গত সপ্তাহে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন যে দেলসি রদ্রিগেজের প্রশাসনের সঙ্গে তিনি ‘খুব ভালোভাবে’ কাজ করে যাচ্ছেন, তবে মাচাদোর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের বিষয়টি প্রমাণ করে যে তিনি দেলসিকে পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারছেন না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি কোনো কারণে রদ্রিগেজ প্রশাসন মার্কিন স্বার্থের পরিপন্থী কোনো অবস্থান নেয়, তবে ট্রাম্প বিকল্প হিসেবে নোবেলজয়ী মাচাদোকে ক্ষমতায় বসানোর পথ খোলা রেখেছেন। বৃহস্পতিবারের বৈঠকের ফলাফলই নির্ধারণ করে দেবে যে ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব কার হাতে থাকবে।
সূত্র: এএফপি
