ধর্ম অবমাননার অভিযোগে নেপালে মসজিদে হামলা
প্রকাশ: ০৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:২৭ অপরাহ্ন | আন্তর্জাতিক
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে নেপালের বীরগঞ্জসহ ভারত সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পারসা জেলা প্রশাসন বীরগঞ্জ শহরে কারফিউ জারি করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভারতের বিহার সীমান্ত সংলগ্ন সব সীমান্ত পথ বন্ধ বা সিল করে দিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী। ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ খবর জানিয়েছে।
উত্তেজনার শুরু হয় নেপালের ধনুসা জেলার কমলা পৌরসভায়। সেখানকার হায়দার আনসারি ও আমানত আনসারি নামের দুই যুবক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করেন, যাতে নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়কে অবমাননার অভিযোগ ওঠে। ভিডিওটি দ্রুত ভাইরাল হলে ধনুসা ও পারসা জেলায় সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা তৈরি হয়।
স্থানীয়রা ওই দুই যুবককে ধরে পুলিশের হাতে সোপর্দ করলেও উত্তেজনা প্রশমিত হয়নি। এর পরই ধনুসার সাখুয়া মারান এলাকায় একটি মসজিদে ভাঙচুর চালানো হয়। এই ঘটনার প্রতিবাদে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে আসে এবং পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
বিক্ষোভ চলাকালীন হিন্দু সংগঠনগুলোও পাল্টা অভিযোগ করে যে, তাদের দেব-দেবীর বিরুদ্ধেও অবমাননাকর মন্তব্য করা হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা একপর্যায়ে সহিংস হয়ে ওঠে এবং স্থানীয় পুলিশ স্টেশনে হামলা ও পাথর নিক্ষেপ করে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অন্তত আধা ডজন কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। নিরাপত্তার খাতিরে বীরগঞ্জ শহরে অনির্দিষ্টকালের কারফিউ জারি করেছে প্রশাসন।
বীরগঞ্জের উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে সীমান্ত এলাকাতেও। ভারতের সশস্ত্র সীমা বল (এসএসবি) নেপাল সীমান্ত পুরোপুরি সিল করে দিয়েছে। জরুরি সেবা ছাড়া সাধারণ নাগরিকদের চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
ভারত ও নেপালকে সংযোগকারী মৈত্রী সেতুতে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। প্রতিটি ব্যক্তিকে তল্লাশি করা হচ্ছে এবং নিরাপত্তা জোরদারে সেখানে ডগ স্কোয়াড মোতায়েন করা হয়েছে। মৈত্রী সেতু ছাড়াও মহাদেব, পান্তোকা, সিওয়ান টোলা ও মুশারওয়ার মতো সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে টহল বাড়িয়েছে এসএসবি।
নেপালের পরিস্থিতি অবনতি হওয়ায় সেখানে কর্মরত ভারতীয় শ্রমিকরা দলে দলে দেশে ফিরতে শুরু করেছেন। বীরগঞ্জ থেকে ভারতে ফেরার পথে রাকেশ নামের এক শ্রমিক জানান, বীরগঞ্জের সব দোকানপাট ও বাজার পুরোপুরি বন্ধ। তিনি বলেন, সেখানে এই অবস্থায় থাকার কোনও মানে হয় না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার কাজে ফিরব।

