তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তুলতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার এখনই সময় : সেলিমুজ্জামান সেলিম
প্রকাশ: ০৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:১২ অপরাহ্ন | রাজনীতি
গোপালগঞ্জ-১ (কাশিয়ানী–মুকসুদপুর) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলিম তার বক্তব্যে ঐক্য, মানবিকতা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের শপথে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে হারানোর শোককে শক্তিতে রূপান্তর করতে হবে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ এবং জননেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তুলতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার এখনই সময়।
কাশিয়ানী–মুকসুদপুরের বিভিন্ন স্থানে জনসংযোগের সময় সেলিমুজ্জামান বলেন, দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের পর যখন জাতি স্বৈরাচারের কবল থেকে মুক্ত হয়ে গণতন্ত্র পুনর্গঠনের পথে এগোচ্ছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে দেশ হারাল এক আপোসহীন নেত্রীকে। এটি জাতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। তবে জন্ম-মৃত্যু সৃষ্টিকর্তার বিধান এই বাস্তবতা মেনে নিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার স্বপ্নের সুসংগঠিত, সুসংহত বাংলাদেশ বাস্তবায়নের দায়িত্ব এখন আমাদের কাঁধে। তিনি মরহুমার রুহের মাগফেরাত কামনা করে বলেন, মহান আল্লাহ যেন তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করেন।
তৃণমূল নেতাকর্মীদের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, দলের দুঃসময়ে তৃণমূলই ছিল এবং থাকবে বিএনপির মূল শক্তি। ষড়যন্ত্র-চক্রান্তের জাল ছিন্ন করে তৃণমূলের ঐক্যই আগামী নির্বাচনে ধানের শীষকে বিজয়ী করবে এ বিশ্বাস তিনি মনেপ্রাণে ধারণ করেন।
হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে সেলিমুজ্জামান বলেন , সংখ্যালঘু বলে কিছু নেই, আমরা সবাই দেশের নাগরিক। বিএনপি সবসময় সব ধর্মের মানুষের পাশে ছিল, আছে এবং থাকবে। তিনি বলেন, কে হিন্দু, কে মুসলিম এটি মুখ্য নয়; আমরা সবাই বাংলাদেশি। আপনাদের পরিবারের একজন সদস্য হিসেবে যে কোনো যৌক্তিক দাবি পূরণ করাকে তিনি নিজের দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেন।
মৌলবাদী চক্র ও একাত্তরের পরাজিত শক্তির ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের পতন ঘটেছে, কিন্তু গণতন্ত্র এখনো পুরোপুরি ফিরে আসেনি। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ভিন্নমতকে সম্মান, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও মানবিক রাজনীতির বিকল্প নেই। নিরীহ মানুষ যেন কোনো হয়রানির শিকার না হয়—সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার আশ্বাসও দেন তিনি।
তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কার রূপরেখা প্রসঙ্গে সেলিমুজ্জামান সেলিম বলেন, বিএনপি কেবল ক্ষমতার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না—বিএনপি বিশ্বাস করে রাষ্ট্র ও সমাজের কাঠামোগত সংস্কারে। এই ৩১ দফা কোনো স্লোগান নয়, এটি একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের রোডম্যাপ। এখানে রয়েছে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, প্রশাসনে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা, নির্বাচন ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্য সংস্কার, মতপ্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, মানুষের ভোটাধিকার ও মৌলিক অধিকার সুরক্ষার সুস্পষ্ট অঙ্গীকার। এই রূপরেখায় নারীর শিক্ষা ও কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ, যুবসমাজের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ, শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারের স্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে।
কাশিয়ানী–মুকসুদপুরের বিভিন্ন স্থানে জনসংযোগের সময় তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র যেন আর কখনো দমন-পীড়নের যন্ত্রে পরিণত না হয় এটাই ৩১ দফার মূল দর্শন। এই রূপরেখা মানুষের মর্যাদা, ন্যায়বিচার ও সমতার ভিত্তিতে একটি মানবিক রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার। এখানে ক্ষমতার ভারসাম্য, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, আইনের শাসন এবং জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে। সেলিমুজ্জামান সেলিম বলেন, এই ৩১ দফা বাস্তবায়ন মানেই প্রতিহিংসার রাজনীতির অবসান এবং সহনশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির সূচনা। আগামী নির্বাচন শুধু একটি ভোটের দিন নয় এটি হবে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ঐক্যবদ্ধ না হলে ষড়যন্ত্রকারীরা আবার মাথাচাড়া দিতে পারে। তাই দলমত নির্বিশেষে সবাইকে মানবিকতা, পারস্পরিক সম্মান ও ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
তিনি আরও বলেন, তৃণমূলের নেতাকর্মী, সাধারণ মানুষ, সংখ্যালঘু সম্প্রদায় সবার সম্মিলিত শক্তিতেই গোপালগঞ্জ-১ আসনে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত হবে। এই বিজয় শুধু একটি আসনের নয়, এটি হবে গণতন্ত্র, ঐক্য ও মানবিক রাজনীতির জয়গান।
