শামা ওবায়েদের হাতে ফুল দিয়ে বিএনপিতে যোগ দিলেন আ.লীগের ৫ নেতা
প্রকাশ: ০৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:২৮ পূর্বাহ্ন | রাজনীতি
সালথা ও নগরকান্দা উপজেলা নিয়ে গঠিত ফরিদপুর-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে বিএনপিতে যোগদান করেছেন সালথা উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী পাঁচ নেতা। সোমবার (৫ জানুয়ারি) বিকেলে সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মুরাটিয়া গ্রামে আয়োজিত বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া অনুষ্ঠানে শামা ওবায়েদের হাতে ফুল দিয়ে বিএনপিতে যোগদান করেন তারা। এর আগে দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে আওয়ামী লীগের দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগদানের ঘোষণা দেন আওয়ামী লীগের ওই পাঁচ নেতা।বিএনপিতে যোগদান করা আওয়ামী লীগের ওই পাঁচ নেতা হলেন— মাঝারদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান মো. আফসার উদ্দিন মাতুব্বর, মাঝারদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. এসকেন মাতুব্বর, তিন নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফরিদ মোল্লা, দুই নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ইসহাক মাতুব্বর এবং উপজেলা কৃষক লীগের সহসভাপতি মো. বছির মাতুব্বর। এসব নেতার সঙ্গে আওয়ামী লীগের সহস্রাধিক কর্মী ও সমর্থকও বিএনপিতে যোগদান করেন। ওই অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগ দেওয়া নেতাদের স্বাগত জানিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, এখানে যারা আজ এসেছেন, তারা সবাই বলছেন- আমরা এককালে বিএনপি করতাম। কিন্তু অত্যাচারে থাকতে না পেরে অন্য দলে গিয়েছিলাম। আমরা আবার বিএনপিতে ফিরে এসেছি।তিনি বলেন, আমার বাবা এই এলাকার মানুষের জন্য কাজ করেছেন। দল-মত নির্বিশেষে সবাই তার কাছে নগরকান্দা-সালথার মানুষ হিসেবেই পরিচিত ছিল। আমিও আপনাদের কারও বোন, কারও মেয়ে হিসেবে পাশে থাকতে চাই।দোয়া অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান, সালথা উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খন্দকার খায়রুল বাসার আজাদ, সালথা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ওহিদুজ্জামান প্রমুখ।এর আগে সোমবার (৫ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মুরাটিয়া গ্রামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন ওই পাঁচ নেতা।সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান উপজেলা কৃষক লীগের সহসভাপতি মো. বছির মাতুব্বর। তিনি বলেন, মাঝারদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান মো. আফসার উদ্দিন মাতুব্বরের নেতৃত্বে আজ থেকে আমরা সবাই একযোগে আওয়ামী লীগের সকল পদ-পদবি ও কর্মকাণ্ড থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ঘোষণা দিলাম। আজ থেকে আমরা সবাই বিএনপিতে যোগদান করলাম।বিএনপিতে যোগ দেওয়ার প্রেক্ষাপটের বিবরণ দিয়ে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতি করলেও তৃণমূল পর্যায়ে অবমূল্যায়ন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা না থাকা, দলীয় সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতার অভাব এবং সংগঠনের ভেতরে একচেটিয়া নেতৃত্বের কারণে তারা হতাশ হয়ে পড়েন। এসব কারণেই তারা আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তারা আরও দাবি করেন, বিএনপির গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক চর্চা ও রাষ্ট্র সংস্কারের ঘোষিত লক্ষ্য তাদের অনুপ্রাণিত করেছে। আগামী দিনে সালথা উপজেলায় বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে সক্রিয়ভাবে কাজ করবেন বলেও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়া নেতারা বলেন, কোনো ধরনের চাপের মুখে তারা পদত্যাগ করেননি। তারা নিজেদের ইচ্ছায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে এখন থেকে তারা বিএনপি নেত্রী শামা ওবায়েদের সঙ্গে কাজ করে যাবেন।
তারা ইতিমধ্যে তাদের লিখিত পদত্যাগপত্র সংশ্লিষ্ট কমিটির কাছে জমা দিয়েছেন। তবে সংবাদ সম্মেলনের পরপরই স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আওয়ামী লীগ নেতাদের বিএনপিতে যোগদানের বিষয়টি আলোচিত হতে থাকে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ক্ষমতার সুবিধা ভোগ করার পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলাতে দেখে হালুয়া-রুটির লোভে এসব নেতা দলত্যাগ করছেন।এ বিষয়ে সালথা উপজেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এরা কেউই তৃণমূল আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন না। সুবিধাভোগী রাজনীতির অংশ হিসেবেই আজ নতুন অবস্থান নিচ্ছেন।অন্যদিকে বিএনপির স্থানীয় নেতারা বলছেন,আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ে ভাঙন শুরু হয়েছে এবং এ যোগদান ভবিষ্যতের রাজনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
