ট্রাম্প বোঝাতে চাইলেন, "আমেরিকা ইউরোপই নিরাপদ"
প্রকাশ: ০৩ মার্চ ২০২৬, ১২:৪৬ অপরাহ্ন | সম্পাদকীয়
যুক্তরাষ্ট্র পরোক্ষভাবে ইরানের সাথে যুদ্ধের মাধ্যমে একাধিক উদ্দেশ্য হাছিল করলো। দুনিয়ার ধনকুবেরদেরকে বুঝাইলো যে, দুবাই কিংবা কাতার অথবা সৌদি আরব কোন দেশই বিনিয়োগের জন্য নিরাপদ নয়। আমেরিকা ইউরোপই নিরাপদ। সুতরাং তোমরা আরব দেশে বিনিয়োগ নয়, বিনিয়োগ করলে আমাদের দেশে করো।
ইরানের রাজনীতিবিদদের হাতে যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নেই। যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ রাজনীতিবিদদের হাতে থাকলে যুদ্ধ বিরতি হওয়া সম্ভব, কিন্তু কোন সামরিক ফোর্সের হাতে থাকলে তাদের অস্তিত্ব বিলিন না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ শেষ হয় না। আইআরজিসি আলাদা আলাদা কমান্ডে বিভক্ত হয়ে যুদ্ধ পরিচালনা করছে। কোন কমান্ডো অন্য কোন কমান্ডের লক্ষ্য সম্পর্কে জানেনা। যুদ্ধ একক কমান্ডের হাতে থাকলে যুদ্ধ বিরতি বা শেষ হওয়া সম্ভব, কিন্তু আলাদা আলাদা ভাবে যুদ্ধ করলে যুদ্ধ দীর্ঘমেয়াদি হয়। আর ইরানিরা যুদ্ধ বা মৃত্যুর চেয়ে আত্মসমর্পণকে বেশি ভয় পায়। তারা মনে করে যুদ্ধে জয় পাওয়া সম্ভব কিন্তু আত্মসমর্পণে অস্তিত্ব বিলীন হয়।
আপাতত যুদ্ধবিরতির কোন লক্ষণ নেই, সেই সাথে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ারও কোন লক্ষণ নেই। কেননা এক্ষেত্রে আমেরিকার ইউরোপীয় মিত্ররা ইরাক এবং আফগানিস্তানে যেভাবে সরাসরি আমে*রিকার পক্ষে যুদ্ধে অংশ নিয়েছে এবার সেই সম্ভাবনা কম। আবার সেই সাথে ইউক্রেন ইসুতে ইউরোপীয় মিত্ররা অনেকটাই হাপিয়ে উঠেছে।
আইআরজিসি যখন দেখবে তাদের অস্তিত্ব ধ্বংসের মুখে, তখন তারা মধ্যপ্রাচ্যের সুন্নি শাসকদেরকে টার্গেট করবে। আপাতত মুসলিম বিশ্বের নিশ্চিন্তে রাত কাটানোর সম্ভাবনা নাই।
বাংলাদেশের শাসকগোষ্ঠী ইরানের টার্গেটে না থাকলেও, অর্থনীতি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে । দ্রব্যমূল্যের দাম কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে, আপাতত এই বিষয়টা কিভাবে মোকাবেলা করবেন, সেটা নিয়ে ভাবেন। আর মজলুমদের জন্য দোয়া করেন।
আমেরিকা, ইসরাইল শিয়া সুন্নিদের মারে না, তারা মুসলমানদের মারে। বাংলাদেশের আলেমদের প্রতি অনুরোধ , " শিয়াদের সমর্থনের বিষয়ে ফতোয়া জারি না করে কিভাবে দ্রব্যমূল্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় তার বৈজ্ঞানিক এবং ধর্মীয় ফতোয়া জারি করেন। এতে আমরা কিছুটা স্বস্তি পাবো। "
ইরানের পরের টার্গেট হয়তো অনেকেই ভাবছেন তুরস্ক বা পাকিস্তান। এটা একেবারেই ভুল। কারণ এরা আমেরিকার পারপাস সার্ভ করে। পরের টার্গেট ভারত ও চীন হতে পারে। তবে তারা ভারত বা চীনে সরাসরি আক্রমণ করবে না। পাকিস্তানকে দিয়ে ভারতকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করবে, আর তাইওয়ান ইস্যুতে চীনকে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করবে।
