হাসপাতালে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগীর চাপ
প্রকাশ: ০৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:০২ অপরাহ্ন | জনদুর্ভোগ
টানা তিন সপ্তাহ ধরে চলা তীব্র শৈত্যপ্রবাহে দেশজুড়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই মাসে (১ নভেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত) শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে প্রায় এক লাখ মানুষ সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময় ঠান্ডাজনিত জটিলতায় মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৪৬ জনের।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উল্লিখিত সময়ে ৯৮ হাজার ৭৪১ জন রোগী ঠান্ডাজনিত জটিলতায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে তীব্র শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ হয়ে আক্রান্ত ২৯ হাজার ৫৫৫ জন, মৃত্যু ৪০ জন। এছাড়া ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে ৬৯ হাজার ১৮৬ জন, মৃত্যু ৬ জন।
বিভাগীয় হিসেবে ঢাকা বিভাগে শ্বাসতন্ত্রের রোগী এবং চট্টগ্রাম বিভাগে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে।বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, শীতের কারণে শিশু রোগীর সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা পুরোপুরি বিকশিত না হওয়ায় এবং তীব্র শীতে শ্বাসনালির স্বাভাবিক ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ায় নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কিওলাইটিস ও ডায়রিয়া দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও শিশু রোগীর সংখ্যা ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. পি কে এম মাসুদ উল ইসলাম শিশুদের বিশেষভাবে উষ্ণ রাখা এবং সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, শীত মৌসুম শেষ না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি জটিল থাকতে পারে। নিউমোনিয়ার লক্ষণ দেখা দিলে বা ডায়রিয়া হলে দেরি না করে নিকটস্থ হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
