ঢাকায় এনসিপির প্রার্থীদের দুজন কোটিপতি, একজনের কোনো আয় নেই

 প্রকাশ: ০৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:৫২ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

ঢাকায় এনসিপির প্রার্থীদের দুজন কোটিপতি, একজনের কোনো আয় নেই

ঢাকা মহানগর ও জেলার ২০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে আটটিতে প্রার্থী দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, এই আট প্রার্থীর আয়–সম্পদে বড় ধরনের বৈচিত্র্য দেখা গেছে। বার্ষিক আয় ও মোট সম্পদের হিসাবে সবচেয়ে এগিয়ে ঢাকা-২০ আসনের প্রার্থী প্রকৌশলী নাবিলা তাসনিদ। আর হলফনামায় কোনো আয় না দেখিয়ে সবচেয়ে পিছিয়ে আছেন ঢাকা-৫ আসনের প্রার্থী এস এম শাহরিয়া।নির্বাচনী হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঢাকায় এনসিপির আট প্রার্থীর মধ্যে দুজন কোটিপতি। তাঁদের একজন নাবিলা তাসনিদ এবং অন্যজন ঢাকা-৭ আসনের প্রার্থী তারেক আহম্মেদ আদেল। নাবিলা তাসনিদের বার্ষিক আয় প্রায় ৪০ লাখ টাকা এবং তাঁর ও স্বামীর নামে মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৫ কোটি টাকা। অন্যদিকে তারেক আহম্মেদ আদেলের বার্ষিক আয় ৪০ লাখ টাকার বেশি এবং সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৪ কোটি টাকা। আদেল এর আগে জাতীয় পার্টির উপদেষ্টা ছিলেন; গত ১০ ডিসেম্বর এনসিপির প্রার্থীদের আংশিক তালিকা প্রকাশের পর তাঁর এনসিপিতে প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি সামনে আসে।বার্ষিক আয়ের হিসাবে এনসিপির প্রার্থীদের মধ্যে শীর্ষে রয়েছেন তারেক আহম্মেদ আদেল। হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর বার্ষিক আয় ৪০ লাখ ৭৮ হাজার ১৪৮ টাকা। এর মধ্যে বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট ও বাণিজ্যিক স্থাপনা থেকে ভাড়া বাবদ আসে প্রায় ৩৮ লাখ টাকা। ব্যবসা থেকে তাঁর আয় তুলনামূলকভাবে কম। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে তাঁর নামে রয়েছে নগদ অর্থ ও ব্যাংক জমাসহ দেড় কোটির বেশি টাকা। সর্বশেষ আয়কর রিটার্নে তিনি প্রায় সাড়ে আট লাখ টাকা কর দেওয়ার তথ্য উল্লেখ করেছেন।


বার্ষিক আয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন নাবিলা তাসনিদ। তাঁর ঘোষিত আয় ৪০ লাখ ৫ হাজার ১৭৫ টাকা। এর বড় অংশই আসে চাকরি থেকে। সম্পদের হিসাবে তিনি সবচেয়ে এগিয়ে। হলফনামায় উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, তাঁর কাছে ৪০ ভরি সোনা রয়েছে। তাঁর অস্থাবর সম্পদের বর্তমান আনুমানিক মূল্য দেড় কোটির বেশি। এ ছাড়া তাঁর ও স্বামীর নামে কয়েক কোটি টাকার স্থাবর সম্পদ রয়েছে, যার বড় অংশ কৃষিজমি। ঢাকায় এনসিপির প্রার্থীদের মধ্যে সম্পদের দিক থেকে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন দলের মুখ্য সমন্বয়ক ও ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তাঁর বার্ষিক আয় সাড়ে চার লাখ টাকার মতো হলেও নিজের ও স্ত্রীর নামে মোট অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৬৫ লাখ টাকা। নগদ অর্থ, গয়না ও অন্যান্য সম্পদের পাশাপাশি তাঁদের কোনো স্থাবর সম্পদ বা ঋণ নেই বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে। পেশাগত দিক থেকে দেখা যায়, ঢাকায় এনসিপির আট প্রার্থীর মধ্যে চারজন হলফনামায় নিজেদের পেশা হিসেবে ব্যবসার কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁরা হলেন নাবিলা তাসনিদ, তারেক আহম্মেদ আদেল, এস এম শাহরিয়া ও আরিফুল ইসলাম। আরিফুল ব্যবসার পাশাপাশি ফ্রিল্যান্স সাংবাদিকতাকেও পেশা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অন্যদের মধ্যে জাবেদ মিয়া পেশায় আইনজীবী, দিলশানা পারুল ‘উন্নয়নকর্মী’, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ‘মার্কেটিং কনসালট্যান্ট’ এবং দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম নিজেকে ‘পরামর্শক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।


নারী প্রার্থী হিসেবে ঢাকায় এনসিপির তালিকায় রয়েছেন দুজন—নাবিলা তাসনিদ ও দিলশানা পারুল। দিলশানা পারুলের আয়ের বড় অংশ দেশের বাইরে থেকে আসে। হলফনামা অনুযায়ী, দেশে তাঁর কোনো আয় নেই; বিদেশে চাকরি থেকে তাঁর বার্ষিক আয় ২২ লাখ টাকা। তাঁর ও স্বামীর নামে কোনো স্থাবর সম্পদ বা যানবাহনের তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।

আয়ের দিক থেকে মধ্যম অবস্থানে আছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তাঁর বার্ষিক আয় ১৬ লাখ টাকা। অস্থাবর সম্পদের বর্তমান মূল্য তিনি প্রায় ৩০ লাখ টাকা দেখিয়েছেন। এ ছাড়া জাবেদ রাসিনের বার্ষিক আয় ৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা, আরিফুল ইসলামের ৬ লাখ টাকা এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ৪ লাখ ৪৭ হাজার টাকা।


ঢাকায় এনসিপির প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে ‘দরিদ্র’ এস এম শাহরিয়া। পেশায় ব্যবসায়ী এই প্রার্থী হলফনামায় কোনো আয় দেখাননি। তবে নিজের সর্বশেষ আয়কর রিটার্নে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকার আয় দেখিয়েছেন শাহরিয়া। এর বিপরীতে তিনি ৫ হাজার টাকা করও দিয়েছেন।

হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, এস এম শাহরিয়ার ১১ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকার অস্থাবর সম্পদ আছে। এর পুরোটাই নগদ অর্থ। তাঁর কোনো গাড়ি ও ইলেকট্রনিক পণ্য নেই। কোনো স্থাবর সম্পদও নেই। তবে আয়কর রিটার্নে ৩৩ লাখ ১০ হাজার ৫১৯ টাকার সম্পদ দেখিয়েছেন।

শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকে আট প্রার্থীর মধ্যে চারজন স্নাতকোত্তর, তিনজন স্নাতক এবং একজন এসএসসি পাস। বয়সের হিসাবে ছয়জনের বয়স ৩৫ বছরের নিচে। একজন চল্লিশোর্ধ্ব এবং একজন পঞ্চাশোর্ধ্ব।প্রসঙ্গত, এনসিপি জামায়াতে ইসলামীসহ ১২ দলের সঙ্গে আসন সমঝোতা করেছে। এই সমঝোতাকে কেন্দ্র করে দলের ভেতরে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। গত ১০ দিনে দলটির অন্তত ১৫ জন কেন্দ্রীয় নেতা পদত্যাগ করেছেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।


জাতীয় এর আরও খবর: