গোপালগঞ্জ-২ এ ধানের শীষের বিজয়ে প্রত্যয়ী ডা. কে এম বাবর

 প্রকাশ: ০৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:৩৭ অপরাহ্ন   |   রাজনীতি

গোপালগঞ্জ-২ এ ধানের শীষের বিজয়ে প্রত্যয়ী ডা. কে এম বাবর

গোপালগঞ্জ-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডা. কে এম বাবর আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে দেখছেন একটি ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে। তাঁর ভাষায়, এটি কেবল ক্ষমতা দখলের লড়াই নয়; এটি মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও ন্যায্য প্রাপ্য পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম। দীর্ঘদিন ধরে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার সংকুচিত হওয়ার যে অভিযোগ জনমনে জমেছে, সেই প্রেক্ষাপটে এই নির্বাচনকে তিনি জনগণের রায়ের মঞ্চ হিসেবে দেখছেন।

ডা. বাবর স্পষ্ট করে বলেন, বড় চ্যালেঞ্জই বিএনপির রাজনীতির শক্তি। চ্যালেঞ্জকে সুযোগে রূপান্তর করাই বিএনপির রাজনৈতিক দর্শনের মূল কথা। তাঁর লক্ষ্য একটাই—ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করা, তবে তা কোনো চাপ, ভয় বা কৌশলের মাধ্যমে নয়; জনগণের হৃদয় জয় করেই।

তিনি বলেন, “নির্বাচন মানে শুধু পোস্টার, ব্যানার বা স্লোগানের প্রতিযোগিতা নয়। নির্বাচন হলো মানুষের আস্থা অর্জনের কঠিন পরীক্ষা। শালীন আচরণ, নিয়মিত গণসংযোগ, সততা আর বাস্তব কাজ দিয়েই মানুষকে ভোটকেন্দ্রে আনতে হবে।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট—ভোট রাজনীতিতে শিষ্টাচার ও নৈতিকতা ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি।

পেশায় একজন চিকিৎসক হওয়ায় স্বাস্থ্যসেবাকে তিনি তাঁর রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রেখেছেন। ডা. বাবর বলেন, “আমি একজন ডাক্তার। তাই আমার রাজনীতির প্রথম অগ্রাধিকার স্বাস্থ্যখাত। সরকারি হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা, চিকিৎসাসেবায় বৈষম্য, দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা বঞ্চনা—এসব আমি প্রতিদিন খুব কাছ থেকে দেখি।” তিনি মনে করেন, গোপালগঞ্জের মানুষ উন্নত ও মানবিক স্বাস্থ্যসেবার অধিকারী হলেও সেই অধিকার আজও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।

নির্বাচিত হলে তিনি স্বাস্থ্যখাতে বাস্তবসম্মত ও টেকসই পরিবর্তনের অঙ্গীকার করেন। জবাবদিহিমূলক হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা, সহজপ্রাপ্য চিকিৎসা, দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ সেবা এবং চিকিৎসা ব্যবস্থায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান তিনি।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ডা. বাবর কড়া কিন্তু দায়িত্বশীল বার্তা দেন। তিনি বলেন, “ভিন্ন মতকে সম্মান করতে হবে। ভয়ভীতি, হয়রানি বা দমন-পীড়নের রাজনীতি বিএনপির আদর্শ নয়।” কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন মিথ্যা মামলায় বা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার না হয়—সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ ও দায়িত্বশীল থাকার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে নির্বাচনে জয়ী হলে আইনি সহায়তার মাধ্যমে হয়রানির শিকার মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিনি আরও বলেন, তৃণমূলকে শক্তিশালী না করলে বিজয় সম্ভব নয়। প্রতিটি নেতাকর্মীকে মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে আচরণ করতে হবে। মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়ানোই রাজনীতির প্রকৃত পরিচয়—এই বিশ্বাসেই তিনি মাঠে নামছেন।

উল্লেখ্য, ডা. কে এম বাবর ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বর্তমানে গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য। দলীয় নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, তাঁর পেশাগত অভিজ্ঞতা, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও আদর্শিক রাজনীতির সমন্বয়ে গোপালগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির জনভিত্তি আরও সুদৃঢ় হবে এবং ধানের শীষের বিজয়ের পথ প্রশস্ত হবে।

রাজনীতি এর আরও খবর: